সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

হিমোফিলিয়া (Hemophilia)

E-mail Print

অনেক সময় শরীরের কোথও কেটে গেলে বা দাত তোলার পর রক্তপাত বন্ধ হতে চায়না। ঘাবড়ে দেবার মতো এমন একটি রোগই হিমোফিলিয়া। অবশ্য রক্ত জমাট না বাধার সব রোগই হিমোফিলিয়া নয়। ছোটোখাটো কাটাছেড়ার পর যে উপাদানের কারণে রক্তপাত নিজে নিজেই বন্ধ হয় তার নাম ক্লটিং ফ্যাক্টর (Clotting factor), এমনই দুটি ফ্যাক্টর বা উপাদানের অভাবে হিমোফিলিয়া হয়। এক্স ক্রমোজোম (Chromosome X) এর ত্রুটির কারনে এই উপাদান দুটি শরীরে তৈরী হয়না।
জন্মগত ভাবে প্রাপ্ত এই রোগটি এক্স ক্রমোজোম দ্বারা বংশপরম্পরায় বাহিত হয়। বলতে গেলে পুরুষেরাই একমাত্র এই রোগে আক্রান্ত হয়। মহিলারা এই রোগের ক্রমোজোমের ত্রুটি বহন করলেও এতে আক্রান্ত হয়না। একদম সহজ করে বললে নানার কাছ থেকে এই রোগটি মায়ের হয়ে পুরুষ শিশুর কাছে আসে, নানা এবং মামারা এতে আক্রান্ত হলেও মা এবং খালারা এতে কখনোই আক্রান্ত হয় না।

বাচ্চার কোথাও কেটে গেলে, দাত ফেলার সময় বা মুসলমানি করার পর রক্তপাত বন্ধ না হলে প্রথম এই রোগটির উপস্থিতি ধরা পরে। এছাড়া এরোগে নিজে নিজেই হাটু, কনুই বা পায়ের গোড়ালি রক্ত জমে ফুলে যাওয়া, ব্যাথা হওয়া ইত্যাদি উপসর্গগুলো দেখা যায়। খাদ্যনালী, মূত্রনালী বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হওয়াও এই রোগে অস্বাভাবিক নয়।

এই রোগে রক্ত পরীক্ষা করলে রক্তের Clotting time এবং APTT বেশী পাওয়া যায়। রক্ত জমাট বাধার উপাদান Factor VIII অথবা IX এর মাত্রা এই রোগে একদম কমে আসে।

হিমোফিলিয়া রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগটি কি পর্যায়ে আছে তার উপড়। রোগিকে সবসময় আঘাত এড়িয়ে চলা শিখতে হবে, দাতের যত্ন নিতে হবে, ব্যথার যে কোনো অসুধ সাবধানতার সাথে খেতে হবে। হিমোফিলিয়া রোগী নিজের সঙ্গে সবসময় একটি কার্ড বহন করার কথা যাতে তার রোগের কথা লিখা থাকবে। রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞ বা হেমাটোলজিস্ট (Hematologist)এর তত্ত্বাবধানে এই রোগের চিকিৎসা করাতে হয়। তাদের নির্দেশ মতোই চলতে হবে।

 

 

সম্পর্কিত আরও লেখা

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়