সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

মেরুদন্ড (vertebral column)

E-mail Print

সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে এসেছি শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। সেই মেরুদন্ডটা (back bone/vertebral column) কি জিনিস আমাদের ভালো মতো জানা আছে তো? উত্তরে একগাদা হ্যা শব্দ শোনা গেলেও এর ভেতরের সব কিছু জানার পর হ্যা বলার প্রবণতা অনেকেরই কমে আসতে পারে।

সহজ বাংলায় বলতে গেলে মেরুদন্ড মানুষের দেহের পেছনের দিকে খুব শক্ত হাড়ের (কশেরুকা - vertebra)তৈরী একখানা দন্ডের ন্যায় বস্তু যার ভীষন রকম আকাবাকা হবার ক্ষমতা রয়েছে, ঠিকই শুনছেন - মেরুদন্ড সোজা করে রাখা কিন্ত খুব সহজ কাজ নয়। পুরো মেরুদন্ডটি প্রায় গোটা ত্রিশেক কশেরুকা দারা তৈরী, যারা প্রায় প্রত্যেকেই একে অপরের উপর সহজেই সবদিকে নড়াচড়া করতে পারে, মানে সামনে-পিছনে-ডানে-বায়ে, তাহলে মেরুদন্ড কি কখনোই সোজা রাখা যায়না? অবশ্যই যায়, একে ঘিরে একগাদা সবল মাংসপেশী আছে যাদের ব্যবহার করে মেরুদন্ডকে সোজা রাখা যায়; তবে স্বাভাবিক ভাবে সব সুস্থ্য মানুষের মেরুদন্ডই কিন্ত সামান্য বাকা থাকে।

মেরুদন্ড গঠনে যে সকল কশেরুকাগুলো অংশ নেয় তাদের ৭ টি থাকে গলদেশে, এদের বলে cervical vertebra (C1 – C7), ১২ টি থাকে বক্ষদেশ বরাবর যাদের বলা হয় thoracic vertebra (T1 – T12), কোমড় বা মাজা বরাবর থাকে ৫ টি এদের বলা হয় Lumber vertebra (L1- L5), পুচ্ছদেশে থাকে ৫টি যাদের বলা হয় Sacral vertebra (S1-S5)। এরও নীচে যার অবস্থান তাকে বলা হয় কক্সিস Coccyx, আমরা বোঝার সুবিধার্থে তাকে একটি হিসেবেই গন্য করবো।

প্রত্যেকটি কশেরুকার মধ্যেই একটি করে বড় ফুটো (spinal canal) রয়েছে যা দিয়ে মস্তিষ্কের বর্ধিত অংশ মেরুরজ্জু বা spinal cord এবং গুরুত্বপূর্ন রক্তনালী যায়। এছাড়া দুটি সংলগ্ন কশেরুকার মাঝে দুই পাশে দুটো ফুটো (intervertebral foramen)রয়েছে এর ভেতর দিয়ে শরীরের খুব গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু বা nerve বের হয়ে শরীরের বিভিন্ন মাংশপেশীকে মস্তিস্কের সাথে সংযুক্ত করে, যেমন গলদেশে রয়েছে ৮ জোড়া (cervical nerve), বক্ষদেশে ১২ জোড়া (Thoracic nerve), কোমড় বরাবর ৫ জোড়া (Lumber nerve) এবং পুচ্ছদেশ এ চার জোড়া (Sacral nerve)। আর এভাবেই দেহের সকল মাংশপেশী মস্তিষ্কের সরাসরি নিয়ন্ত্রনে থাকে।

কশেরুকাগুলো পরস্পরের সাথে বিভিন্ন লিগামেন্ট (Ligament) এবং মাংশপেশী দ্বারা যুক্ত থাকে। আবার সংলগ্ন দুটি কশেরুকার মাঝে থাকে একটি করে গদির (Cushion) মতো চাকতি, একে বলা হয় intervertebral disc। এর মূল কাজ পরস্পর দুটি কশেরুকার সংঘর্ষ এড়ানো এবং এদের মাঝের নড়াচড়াকে সুস্থির রাখা। যখন এই সব উপাদানের যে কোন একটি অর্থাৎ লিগামেন্ট, ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক, মাংশপেশী বা কশেরুকা কারো কোন রকম সমস্যা দেখা দেয় তখনই এদের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া স্নায়ুতে চাপ পরে এবং পার্শবর্তী মাংশপেশীতে ব্যথা অনুভুত হয়। যেমন গলদেশে হলে ঘাড়ে ব্যথা, বক্ষদেশে হলে পিঠেব্যথা, কোমড়ে হলে কোমড় ব্যথা ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু কি তাই? এই সমস্যা গুলো বেড়ে গেলে স্নায়ুগুলো যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যায় তাহলে তা থেকে আরো জটিল জটিল উপসর্গ হতে পারে। যেমন হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, প্রসাব বা পায়খানার বেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এমন আরো কিছু।

সুস্থ্য থাকার জন্য আমাদের সকলেরই মেরুদন্ড এবং স্পাইনাল কর্ড ও নার্ভ সম্পর্কে অল্পবিস্তর জ্ঞান রাখা উচিত। এতে করে আমরা সকলেই আমাদের অনেক গুলো রোগের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সহজে ধারনা পেতে পারবো। তবে সহজ কথায় নিয়মিত ভারী কাজ না করা, হাটা হাটি, দৌড়ানো এই জাতীয় হাল্কা ব্যায়াম করা ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের মেরুদন্ডের যত্ন নেয়া যায় এবং এভাবে মেরুদন্ডের অনেক ধরনের রোগ এড়িয়ে চলা যায়।

 

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়