সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu)

E-mail Print

সোয়াইন ফ্লু নামটি শুনলেই বোঝা যায় এটা শুকরের একটি অসুখ। আসলে শুকরের ইনফ্লুয়েঞ্জার অপর নামই হচ্ছে সোয়াইন ফ্লু। একে হগ ফ্লু বা পিগ ফ্লু নামেও ডাকা হয়। শুকরের এমন রোগ হলে তা শুকরের মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক শুকর মারা যায়। তাহলে তাতে মানুষের এতো ঘাবড়ানোর কি আছে? আছে, যারা শুকর লালন পালন বা চাষাবাদ করে শুকর থেকে তাদের এ রোগ আসতে পারে, আবার যে সকল মানুষ ঐসব খামারির সংস্পর্শে আসবে তাদেরও এই রোগ হতে পারে। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এই যে ২০০৯ সালে যে সোয়াইন ফ্লু নিয়ে আমরা এতো চিন্তিত তা কিন্ত শুকর থেকে আসেনি তবে হ্যা শুকরের এমন রোগ হতে পারে কিংবা হয়েও থাকে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগটি ভাইরাস জনিত একটি রোগ, বর্তমান সোয়াইন ফ্লু রোগটি যে ভাইরাস দ্বারা হয়েছে তা হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সিএবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এর কিছু সাবটাইপ দিয়ে (H1N1-এইচ ওয়ান এন ওয়ান)। এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কিংবা কাশির মাধ্যমে একজন সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে সৃষ্ট বাষ্পকনা বাতাসে ভেসে বেড়িয়ে এই সংক্রমন ঘটায়, এটা নিত্য ব্যবহার্য্য কোন স্থানে বা পাত্রে জমে থেকেও সংক্রমন ঘটাতে পারে। ঐ পাত্র বা স্থান (যেমন টেবিল, চেয়ার, টেলিফোন, দরজার হাতল ইত্যাদি) একজন সুস্থ ব্যক্তি যদি হাত দিয়ে স্পর্শ করে এবং ঐ হাত দিয়ে তার নাক, মুখ বা চোখ স্পর্শ করে তাহলে তা থেকে সুস্থ ব্যক্তির সোয়াইন ফ্লু হতে পারে। এজন্য এ রোগের হাত থেকে বাঁচতে হলে আক্রান্ত রোগীর হাঁচি কাশি থেকে দূরে থাকতে হবে, যেহেতু জনসমাগম বেশী এসকল স্থানে কারো এই রোগ থাকতে পারে তাই ঐ সকল স্থানের কোনো কিছু স্পর্শ করে সাথে সাথে নাকে, মুখে বা চোখে হাত দেয়া যাবেনা। তবে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিলে হাতে সোয়াইন ফ্লুর ভাইরাস থাকেনা।

এজন্য জনসমাগমে বা Public place যেতে এমন লোকজনদের দিনে বেশ কয়েকবার ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবেবার্ড ফ্লু এর মতো সোয়াইন ফ্লু শুকরের মাংসের মাধ্যমে ছড়ায় না কারন এসকল মাংস ভালো করে রান্না করে প্রস্তত করলে তা ভাইরাস মুক্ত হয়ে যায়তবুও এই সময়ে শুকরের মাংসভোজীদের বিশেষ সাবধান থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে

কিভাবে বুঝবেন আপনার বা আপনার আশেপাশের কারো সোয়াইন ফ্লু হয়েছে কিনা? সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত রোগী অন্যান্য ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত রোগীর মতোই উপসর্গে ভোগেযেমন জ্বর, হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা, গা ব্যথা, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি লাগা বা অতিরিক্ত দুর্বল লাগা এবং শীত শীত লাগাতাই এই সব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিসৎকের পরামর্শ নিন এবং আপনার হাঁচি এবং কাশির মাধ্যমে অন্য কেউ যেনো আক্রান্ত না হয় এজন্য হাঁচি -কাশি হলে তা রুমাল, গামছা বা অন্য কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুনএই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারনত প্রথম দিন এই রোগ ছড়িয়ে থাকে তবে শিশুদের এই রোগ হলে তারা ১০ দিন পর্যন্ত ভাইরাস ছড়াতে পারে

দুটি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায় কারো সোয়াইন ফ্লু হয়েছে কিনা, একটি হলো গলার ভিতর থেকে সোয়াব (Nasopharyngeal swab) নিয়ে তার ভাইরাল কালচার (viral culture) করা, এটির মাধ্যমে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, অন্যটি হলো রক্তে H1N1 ভাইরাসের এন্টিবডি PCR (পলিমারেজ চেইন রিয়েকশন) এর মাধ্যমে নির্নয় করা, এটি অনেকটা ভাইরাসের উপস্থিতির পরোক্ষ প্রমান বহন করে

সোয়াইন ফ্লু প্রতিরোধের জন্য এখনো কার্যকরি কোনো টিকা বা ভেক্সিন আবিস্কৃত হয়নি তবে আশা করা যায় ২০০৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে এমন ভেক্সিন বাজারে আসতে পারে; তবে এর চিকিৎসার জন্য এন্টিভাইরাল অসুধ এখন বাজারে বেশ সহজ লভ্যট্যামিফ্লু (Tamiflu) যার প্রকৃত নাম ওসেলটামিভির (oseltamivir) বা Relenza (zanamivir) নামে এই অসুধ গুলো বাজারে াওয়া যায়দিনে দুইবেলা করে মোট ১০ অসুধ এই ভাইরাসকে দুর্বল করে রোগের প্রকোপ কমিয়ে নিয়ে আসেচিকিৎসা নিতে দেরী করলে বা অবহেলা করলে রোগে মানুষের মৃত্যু হতে পারেসাধারনত রেস্পিরেটরি ফেইলুর হয়ে এই মৃত্যু হয়, তবে নিউমোনিয়া, পানি শুন্যতা, তীব্র জ্বর বা ইলেক্ট্রোলাইট ঘাটতির জন্যও মৃত্যু হতে পারে

সোয়াইন ফ্লু এমন একটি রোগ যা একটু সাবধান হলে প্রতিরোধ করা সম্ভবএজন্য জনসচেতনতা তৈরী করা খুব জরুরীআপনি নিজে যা জানেন অপরকে তা জানিয়ে সাবধান সতর্ক করে দিনরোগাক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ দুরত্বে থাকুন, খোলা স্থানে গেলে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নাক-মুখ-চোখ স্পর্শ করুন, সম্ভব হলে জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, রোগের সন্দেহ হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ীই শুধু অসুধ সেবন করুন, বিশ্রাম নিন যথেষ্ট পরিমানে তরল খাবার গ্রহন করুনকফ বা থুতু নিরাপদ স্থানে ফেলুন এবং হাঁচি কাশির সময় মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন

 

 

সম্পর্কিত আরও লেখা

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়