সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

একিউট গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস - এ জি এন (AGN)

E-mail Print

অনেক সময় হাতে পায়ে পাঁচড়া বা ঘা হওয়া বাচ্চাদের দেখা যায় হঠাৎ করে নাক মুখ ফুলে উঠে ভীষন অসুস্থ হয়ে যেতে। কিডনির প্রদাহ জনিত এমন একটি রোগের নামই একিউট গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস (AGN)। সাধারনত দরিদ্র ঘরের বাচ্চারাই এই রোগে বেশী অসুস্থ হয়ে থাকে তবে অবস্থাপন্ন পরিবারে এমন যে হয়না তা কিন্ত নয়। এতটুকু পড়ে কারো মনে হতে পারে এই রোগ বুঝি শুধু শিশুদেরই হয়।তা কিন্তু নয় -বেশীর ভাগ রোগীর বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে হলেও বড়দেরও এমন রোগ হতে পারে।

বাচ্চাদের হাতে, পায়ে বা শরীরে পাঁচড়া বা স্ক্যাবিস (Scabies) হলে অনেক সময় তাতে স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক প্রকার ব্যক্টেরিয়ার সংক্রমন হয়।এই ব্যকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শরীর প্রতিরোধমুলক যে এন্টিবডি তৈরী  করে  তা  এই  ব্যকটেরিয়াকে যেমন ধ্বংস করে তেমনি ব্যক্টেরিয়ার মতো  উপাদান  আছে বলে কিডনির অত্যন্ত জরুরী উপাদান গ্লোমিউরুলাস (যা ছাকনির মতো কাজ করে) কেও ধ্বংস করে দেয়।এর ফলে আক্রান্ত রোগীর প্রসাবের সাথে শরীরের অত্যন্ত মুল্যবান প্রোটিন এবং রক্ত কনিকা বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে রক্ত ও প্রোটিনের পরিমান কমে যেতে থাকে সেই সাথে রোগীর মুখ ও চোখের চারপাশে পানি জমেতা ফুলে উঠে, সমস্ত শরীরে পানি জমে এবং হাত পা ফুলে উঠে, রোগীর রক্ত চাপ বা ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়, প্রসাব লাল বা ঘোলাটে হয়ে যায় সেই সাথে প্রসাবের পরিমান ও কমতে থাকে। এই রোগ হলে রোগীরহাল্কা জ্বর হয়, গা ম্যাজ ম্যাজ করে, ক্লান্তিবোধ হয়, কোমড়ের কাছে ব্যথা হয় এছাড়াও ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়াটাও এ রোগে খুব পরিচিত উপসর্গ।

এটি কিডনির প্রদাহ রোগ হলেও একে শরীরের বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিজনিত (Auto immune disease) রোগ বলে বিবেচনা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের সঠিক চিকিৎসা না করা হলেরোগটি খুব জটিল হয়ে যেতে পারে, তাই উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথেই রোগীকে কিডনি বিশেষজ্ঞ বা নেফ্রোলজিষ্ট এর তত্ত্বাবধানে ভর্তি করিয়ে দেয়া উচিত।

সঠিক রোগটি নির্ণয়ে রোগীকে অনেক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হতে পারে, প্রসাব পরীক্ষা এর মধ্যে একটি। এ রোগ হলে প্রসাবে প্রচুর পরিমানে রক্ত কনিকা এবং প্রোটিন পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন রক্তপরীক্ষা, এক্সরে, ইমিউনোলজিকাল টেষ্ট ও করা হয়। এ রোগ হলে রোগীকে পূর্ন বিশ্রামে থাকতে হয়, নেফ্রোলজিষ্টের পরামর্শ অনুযায়ী স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে এমন একটি এন্টিবায়োটিকও অবশ্যই চালিয়ে যেতে হয়। এছাড়া খাদ্যে দৈনিক লবন, তরল /পানি ও প্রোটিনের মাত্রা কমাতে হয়, ডাইরূটিক্স জাতীয় অসুধ এবং উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনের অসুধ ও সেবন করতে হয়।

সঠিক চিকিৎসা করালে অধিকাংশ রোগীই ভালো হয়ে যায় তবে চিকিৎসা শুরু করতে দেরী হলে অথবা রোগের তীব্রতা খুব বেশী হলে এ রোগের জটিলতা হিসেবে হার্ট ফেইলুর, কিডনি ফেইলুর অথবা এনকেফালোপ্যাথি জাতীয় রোগ হতে পারে।

 

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়