সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

ব্রঙ্কিয়েকটেসিস (Bronchiectasis)

E-mail Print

ব্রঙ্কিয়েকটেসিস আর ব্রঙ্কাইটিস শব্দ দুটো খুব কাছাকাছি হলেও রোগদুটি কিন্ত পুরোপুরি ভিন্ন। ব্রঙ্কিয়েকটেসিস যে কোনো বয়সেই হতে পারে। শিশুরা জন্মগত কারনে এই রোগে ভুগতে পারে আবার অনেকদিন ধরে ধুমপান করলে কিংবা টিবি রোগ থেকেও এই রোগ হতে পারে। কারন যাই হোকনা কেনো সব রোগীকেই দেখা যায় প্রতি সকালে মুখভর্তি করে খাকী রঙের দুর্গন্ধযুক্ত কফ ফেলতে। এতো বেশী কফ এরোগ ছাড়া আর খুব কম রোগেই দেখা যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কফের পরিমানও আস্তে আস্তে কমতে থাকে। আবার অনেক সময় শোয়া থেকে বসলে বা বসা থেকে শুতে গেলেও মুখভর্তী একগাদা কফ চলে আসতে পারে। কফের সাথে কখনো সখনো হাল্কা রক্ত যাওয়াও অস্বাভাবিক নয় তবে রক্ত যাবার পরিমান যখন খুব বেড়ে যায় সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এ রোগে জ্বর, ক্ষুধামন্দা, রুচিহীনতা, ক্লান্তিলাগা, শরীরের ওজন কমে যাওয়া এই উপসর্গগুলোও কফ কাশির সাথে সহাবস্থান করে। শিশুদের এই রোগ হলে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি বাধাপ্রপ্ত হয়।

বক্ষব্যধি বিশেষজ্ঞ গন রোগ চিকিৎসায় বিশেষ পারদর্শী বলে বিবেচনা করা হয়বুকের এক্সরে অথবা সি,টি স্ক্যান করে এই রোগ নির্নয় করা যায়কফ পরীক্ষা করে দেখতে হয় কোনো ইনফেকশন আছে কিনা কিংবা কোন জীবানুর কারনে ইনফেকশন হয়েছেতবে রোগ হবার সঠিক কারন নির্ণয় করতে হলে আরো অনেক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়

রোগের কারন বা উপসর্গ যাই হোকনা কেনো চিকিৎসা কিন্ত একইরোগীকে প্রতিদিন সকালে উঠে বিছানা থেকে মাথা মেঝের দিকে ঢালু করে কাশি দিয়ে সমস্থ কফ বের করে দিতে হয়কেউ এসময়ে পিঠ চাপড়ে দিলে রোগীর জন্য কফ বের করা খানিকটা সহজ হয়রোজ এই প্রক্রিয়াটি (Chest physiotherapy) থেকে ১০ মিনিট করলে সারাদিন রোগী কিছুটা ভালো থাকেন, তবে কারো কারো জন্য এটা দিনে -বার করা লাগতে পারে

এই চেষ্ট ফিজিওথেরাপীর সাথে রোগীকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়কফ পরীক্ষায় কি জীবানু আছে তার উপড় নির্ভর করে বিশেষজ্ঞগন এই এন্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট করেনএছাড়া ব্রঙ্কোডাইলেটর জাতীয় অসুধ্ও রোগীকে নিয়মিত সেবন করতে হয়সেই সাথে অনেক সময় ম্যন্থল ভ্যাপার নিলে কফ বের হতে সুবিধা হয়আবার কফের সাথে হাল্কা রক্ত গেলে রক্ত বন্ধ করার অসুধ খেতে হয়

একটা কথা জেনে রাখা ভালো যে একবার কারো ব্রঙ্কিয়েকটেসিস হলে তা কখনো পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়নাঅবশ্য অসুধ খেয়ে এবং নিয়মনীতি মেনে চলে রোগটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভবতবে অনেক সময়ই রোগটি নিজে নিজে বাড়তে থাকে এবং এক সময় রোগীর প্রচুর শ্বাস কষ্ট হয় এবং কাশির সাথে মাত্রাতিরিক্ত রক্ত যেতে থাকেএজন্য সব সময় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে

সার্জারি করে ব্রঙ্কিয়েক্টেসিস যুক্ত ফুসফুসের অংশটি ফেলে দিলে (Segmentectomy /Lobectomy of lung) রোগী পুরোপুরি এই রোগ থেকে মুক্ত হয়ে যেতে পারেতবে এটা নির্ভর করে রোগটি কি কারনে হয়েছে বা কোন পর্যায়ে আছে তার উপরতবে রোগটি যখন খুব বেশী জটিল হয়ে যায় এবং কাশির সাথে খুব বেশী রক্ত যেতে থাকে তখন সার্জারি (Lobectomy, Pneumonectomy, Ligation of Bronchial artery, Bronchial artery embolization) করা ছাড়া আর কোনো উপয়া থাকেনাতেমনি ব্রঙ্কিয়েকটেসিস এর কারনে কোনো পাশের ফুসফুস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলেও সার্জারি করে তা ফেলে দিতে (Pneumonectomy) হয়এর পর রোগী শুধু একপাশের ফুসফুস নিয়েই একটু সতর্ক ভাবে প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারেনফুসফুসের অন্যান্য রোগের মতো এই রোগেও ধুমপান রোগীর জন্য একে বারে নিষিদ্ধ, ধুমপান করলে রোগীর অবস্থা হঠাৎ করে খারাপ হয়ে যেতে পারে

 

 

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়