সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

ফুসফুসে পানি জমা (Pleural effusion)

E-mail Print

অনেক সময়ই আমরা শুনি যে অমুকে শ্বাস কষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং তার ফুসফুস থেকে ১ লিটার বা দেড় লিটার পানি বের করে দেবার পর সে সুস্থ হয়ে গেছে। এসব খবর আমাদের কাছে চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি করলেও প্রকৃতপক্ষে ঐ পানি কিন্ত ফুসফুস থেকে বের করা হয়না, আর বের করা ঐ পানিও ফুসফুসে জমা পানি না। তা হলে আসলে ওটা কোথায় থাকে? ফুসফুসকে যে পাতলা আবরনী বা প্লুরা ঘিরে রাখে তাতেই জমা হয় ঐ পানি, আর এই রোগটির নাম হলো প্লুরাল ইফিউশন। তাহলে কি ফুসফুসে কখনোই পানি জমেনা? হ্যা, ফুসফুসেও পানি জমে তবে সেই রোগটিকে বলে পালমোনারি ইডেমা (Pulmonary Edema) আর সেই পানি কিন্ত এভাবে বের করা আনা সম্ভব না, তাই পাঠক গন সঠিক ধারনা টি মনে গেথে নিয়ে আর বিভ্রান্ত হবেন না বলেই আমরা বিশ্বাস করি।

অনেক কারনে ফুসফুস আবরনী বা প্লুরায় পানি জমতে পারে, এর মধ্যে কিছু আছে ফুসফুসের নিজস্ব কারন, কিছু কারনের আবার ফুসফুসের সাথে কোনো সম্পর্কই নেই তবে বেশীর ভাগ কারনকিন্ত এই গোত্রের অন্তর্ভুক্তসাধারনত ফুসফুসের টিবি, নিউমোনিয়া, ক্যান্সার, ইনফার্কশন এই জাতীয় রোগে প্লুরায় পানি জমতে পারেআর ফুসফুসের রোগের বাইরে হার্ট ফেইলুর, লিভার সিরোসিস, নেফ্রোটিক সিন্ড্রম, কিডনি ফেইলুর, ম্যালনিউট্রিশন, পেরিকার্ডাইটিস, লিভার এবসেস এসব রোগেও ফুসফুসের প্লুরায় পানি জমতে পারে

প্লুরাল ইফিউশন হলে রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, সেই সাথে বুকে ব্যথা, কাশি, হাল্কা কফ, জ্বএসব সমস্যাও থাকতে পারেতাই এই ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়া উচিতবুকের একটি এক্সরে করালে প্লুরাল ইফিউশন সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়, তবে পানি খুব কম মাত্রায় জমলে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা সিটিস্ক্যান করার প্রয়োজন হতে পারেসেই সাথে সুই দিয়ে পানি বের করে এনে তার নানা রকম পরীক্ষা করে দেখা হয় পানি জমার কারন কি বা পানির প্রকৃতিই বা কিরকমঅনেক সময় এই রোগে প্লুরার বায়োপসি করার প্রয়োজন হতে পারে

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে রোগীর কি রোগের কারনে এই সমস্যা হয়েছে তা নিশ্চিত করেন এবং তার উপর নির্ভর করে চিকিৎসা শুরু করেনযেমন টিবি হবার কারনে এমনটি হলে রোগীকে টিবির অসুধ দেন আবার ক্যান্সার এর কারনে এমনটি হলে ক্যান্সার এর চিকিৎসা শুরু করতে হয়তেমনি ফুসফুস্ এর বাইরে অন্য কোনো রোগের জন্য এমন সমস্যা হলে সেই রোগের চিকিৎসা করালে প্লুরাল ইফিউশন এমনিতেই ভালো হয়ে যায়

অনেক সময় খুব বেশী পানি জমা হলে সুই দিয়ে ফুটো করে বিশেষ পদ্ধতিতে সব পানি বের করে দেয়া হয় (Pleurodesis), তাও যদি ব্যর্থ হয় তাহলে ছোট্ট অপারেশনের মাধ্যমে প্লুরায় একটি টিউব প্রবেশ করিয়ে দিয়ে (Tube thoracostomy) পানি বের করে দেয়া হয়দীর্ঘদিন যাবত প্লুরায় পানি থাকার পরও যদি চিকিৎসা শুরু করা না হয় তাহলে প্লুরায় শক্ত আবরন পরে গিয়ে তা ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতির কারন হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে বড় অপারেশনের (Decortication of Lung) মাধ্যমে তা সরিয়ে ফেলতে হয়তাই কারো এই প্লুরাল ইফিউশন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা উচিত

 

 

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়