সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

হাইড্রোসিল (Hydrocele)

E-mail Print

হাইড্রোসিল রোগটিকে প্রচলিত বাংলায় অনেক সময় একশিরা রোগ বলা হয়। একশিরা শব্দটি শুনে নিশ্চয়ই এতক্ষনে সবাই বুঝে গেছেন এখানে কোন রোগটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অন্ডকোষের ভেতরে অবস্থিত শুক্রাশয়টি (Testis) ফুলে যদি অনেক বড় হয়ে যায় বা এক সের ওজনের হয় তাহলেই তো তাকে একশিরা বলে নাকি? চলুন তাহলে জেনে নেই হাইড্রোসিল কেমন রোগ।

অন্ডথলির ভেতরে শুক্রাশয়টি প্রায় ৩-৪ টি পাতলা পর্দা বা আবরনী দ্বারা ঘেরা থাকে, এমন দুটি আবরনীর ভেতরে যখন স্বচ্ছ কিছু তরল জমা হয় তখনই তাকে হাইড্রোসিল বলা হয়। হাইড্রো মানে যে পানি এতো আমরা সবাই জানি, হাইড্রোসিলের ভেতরের তরলটি কিন্ত পানির মতো অত স্বচ্ছ নয়, কিছুটা এম্বার রঙ এর। নানা বিধ কারনে ঐ সকল পর্দার ভেতরে তরল জমতে পারে এর ফলাফল কিন্ত একটাই বিশাল আকৃতির একটি অন্ডকোষ নিয়ে রোগী বেশ অস্বস্তিতে পরেন, অন্ডকোষের আকার দিনে দিনে বাড়তেই থাকে, রোগীর পক্ষে এক সময় ট্রাউজার বা ফুলপ্যান্ট পরা সম্ভব হয়না, স্বাভাবিক কাজ কর্ম ব্যহত হয় এবং এক সময় যৌন মিলনও অসম্ভব হয়ে উঠে।

অনেক সময়ই হাইড্রোসিল এর সাথে হার্নিয়াও থেকে থাকে, হাইড্রোসিল সাধারনত একদিকে হয় তবে এটা দুই দিকেও হতে পারে। শুক্রাশয়ের প্রদাহের কারনে অনেক সময় হাইড্রোসিল হতে দেখা যায়, কখনো কখনো শুক্রাশয়ে টিউমার হলেও হাইড্রোসিল হতে পারে, কখনো আবার এক প্রকার ক্রিমির (Wucheria bancrofti) আক্রমনেও এমনটি হতে দেখা যায়। এজন্য চিকিৎসকগন চিকিতৎসার প্রারম্ভেই রোগের কারন নির্নয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা করিয়ে নেন। অন্ডকোষের আল্ট্রাসনোগ্রাম এমনই একটি পরীক্ষা।

বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অপারেশনের মাধ্যমেই হাইড্রোসিল ভালো হয়ে যায়। অনেকে আবার ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে স্ক্লেরোজেন্ট দিয়ে এর চিকিৎসা করার পক্ষপাতি যদিও এটা খুবই বেদনা দায়ক। হাইড্রোসিল এর অপারেশন তেমন জটিল কোনো সার্জারি নয়, তবুও একজন অভিজ্ঞ সার্জন দ্বারাই এই অপারেশন করানো উচিত, হাইড্রোসিল এর সাথে হার্নিয়া থাকলে একই সাথে দুটো অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। একদম সফল অপারেশনের পরও পুনরায় হাইড্রোসিল হবার কিছু সুযোগ কিন্ত থেকেই যায়, তাই এই সকল চিন্তা মাথায় রেখেই চিকিৎসা করানো উচিত।

 

 

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়