সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

পলিহাইড্রমনিয়স

E-mail Print

মাতৃগর্ভে জরায়ুর মাঝে শিশুটি এমনিওটিক ফ্লুইড নামক একটি তরল পদার্থের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থাকে। এই ফ্লুইড বা তরলের পরিমাণ যদি কোনা কারনে ২০০০ মিলি লিটার বা ২ লিটার এর চেয়ে বেশী হয়ে যায় তাহলে গর্ভবতী মায়ের পেট অস্বাভাবিক মোটা বা স্থুল দেখা যায়। এরই নাম পলিহাইড্রমনিয়স (Polyhydramnios) বা হাইড্রমনিয়স (Hydramnios)। স্বাভাবিক ভাবে জরায়ুতে ৫০০ থেকে ১৫০০ সিসি এমনিওটিক ফ্লুইড থাকতে পারে।

অনেক কারনে পলিহাইড্রমনিয়স হতে পারে যেমন মায়ের যদি ডায়াবেটিস হয়, কিডনি সমস্যা থাকে বা এক্লাম্পসিয়া থাকে বা গর্ভে একাধিক সন্তান থাকে ইত্যাদি। আবার শিশুর কিছু জন্মগত ত্রুটি (মস্তিষ্ক বা মেরুদন্ডের) থাকলেও মায়ের এমন রোগ হতে পারে।

হাইড্রমনিয়স হলে রোগীর পেট ফুলে টান টান হয়ে থাকে, শ্বাস কস্ট হয়, উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়, বুকধরফর করে, অতিরিক্ত গ্যাস হয়, বাচ্চার নড়াচড়া টের পাওয়া যায়না, এছাড়া একারনে অনেক সময় হাতে পায়ে পানি আসে এমনকি পায়ের শিরাও ফুলে মোটা হয়ে যেতে পারে।

সাধারণত আল্ট্রাসনোগ্রাম করে এই রোগ নিশ্চিত করা হয় তবে এক্সরে করেও এই রোগ নিশ্চিত করা যেতে পারে। অনেক সময় এমনিওসেন্টেসিস নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা হয় গর্ভের শিশুটির মস্তিস্কে কোনো জন্মগত ত্রুটি আছে কিনা এবং সেই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভপাতের ও প্রয়োজন হতে পারে।

এই রোগে রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রামে রাখতে হয় সেই সাথে গ্যাস এর চিকিৎসাও চালিয়ে যেতে হয়।রোগীর পাতে লবন একদম নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ থাকলে তার ও চিকিৎসা দেয়া হয়।এভাবে রোগ নিয়ন্ত্রন করা গেলে পরিণত সময়ে স্বাভাবিক ভাবে বাচ্চা প্রসব করানো হয় তবে মা বা সন্তানের অতিরিক্ত ঝুকি থাকলে এবং বাচ্চার বয়স ৩৭ সপ্তাহের বেশী হলে বাচ্চা প্রসব করিয়ে দেয়া হয়। আর বাচ্চার বয়স এর কম হলে এমনিওসেন্টেসিস করা হয় এবং বাচ্চা পরিনত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় রোগীকে পর্যবেক্ষনে রাখা হয়। মনে রাখতে হবে এই ধরনের রোগীকে অবশ্যই সবসময় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে এবং তিনিই রোগের অবস্থা বুঝে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। {plusone}

 

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়