সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

প্লাসেন্টা প্রিভিয়া

E-mail Print

গর্ভাবস্থায় যোনিপথ বা প্রসব পথে রক্তপাত হওয়াকে সবসময়ই একটি ভয়াবহ চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। গর্ভধারনের ২৪ সপ্তাহ থেকে প্রসবের আগ পর্যন্ত এই রক্তপাত কে এন্টিপারটাম হেমোরেজ বলা হয়। এই অবস্থায় রক্তপাত হবার নানাবিধ কারণ রয়েছে এর মধ্যে প্লাসেন্টা প্রেভিয়া এবং এব্রাপ্সিও প্লাসেন্টি নামক রোগ দুটোই সর্বাধিক দায়ী।

গর্ভের ফুল বা প্লাসেন্টাটি যদি জরায়ুর একদম নীচের দিকে বা জরায়ুমুখে লেগে থাকে তাহলে অনেক সময় প্রসবের রাস্তায় রক্তযেতে পারে। এর নামই প্লাসেন্টা প্রিভিয়া। এমনটি হলে হঠাৎ করেই রক্তপাত শুরু হয়। এক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় যে রক্তপাতের সময় কোনো ব্যথা অনুভুত হয়না এবং রক্তের রং থাকে উজ্জ্বল লাল। প্লাসেন্টা প্রেভিয়া হলে বাচ্চার মাথা সাধারণত সঠিক অবস্থানে থাকেনা, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই মাথা উপড়ের দিকে বা আড়াআড়ি থাকতে দেখা যায়।

রোগী অনেক সময়ই রক্তশূন্যতায় ভোগে এবং অনেক সময় শক (Shock) এও চলে যেতে পারে। এজন্য এধরণের রোগীকে দেরী না করে সাথে সাথে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া উচিৎ। হাসপাতালে ভর্তির পর রোগীকে রক্তদেবার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে এজন্য রোগীর রক্তের গ্রুপ জানা খুবই জরুরী। রক্তশূন্যতা কাটিয়ে উঠার পর যত দ্রুত সম্ভব একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের স্মরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

আল্ট্রাসনোগ্রাম করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে রোগী প্লাসেন্টা প্রিভিয়া রোগে ভূগছেন। অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞগন পরীক্ষা করেও অনেক সময় রোগটির ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেন।গর্ভের বাচ্চার বয়স যদি ৩৭ সপ্তাহের বেশী হয় অথবা মা বা শিশুর ঝুকির পরিমান যদি খুব বেশী থাকে কিংবা রক্তপাত যদি নিয়ন্ত্রন করা না যায় সেক্ষেত্রে সিজারিয়ান সেকশন করে বাচ্চা বের করে নিয়ে আসা হয়। বাচ্চা বের করার পর সব ধরনের রক্তপাতই বন্ধ হয়ে যায়। গর্ভের বাচ্চার বয়স ৩৭ সপ্তাহের কম হলে রোগীকে রক্তদান করা হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে বাচ্চা পরিণত না হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষনে রাখা হয়। বাচ্চা পরিণত হলে তারপর সিজারিয়ান সেকশন করে বাচ্চা বের করে আনা হয়। অসুখটি কমমাত্রার হলে অনেক সময় নরম্যাল ডেলিভারির মাধ্যমেও বাচ্চা প্রসব করানো সম্ভব তবে আপনার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামরশই এ ব্যাপারে সঠিক বলে গণ্য করে নেয়া উচিৎ।

 

 

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়