সুস্বাস্থ্য.কম

সুস্থ্য দেহ ও সতেজ মনের জন্য...

  • Increase font size
  • Default font size
  • Decrease font size

গর্ভাবস্থায় উচ্চরক্তচাপ / প্রি-এক্লাম্পসিয়া

E-mail Print

প্রি-এক্লাম্পসিয়া গর্ভবতী মায়ের উচ্চ রক্তচাপ জনিত একটি রোগ। যে সকল মহিলা গর্ভ ধারণের ২০ সপ্তাহ পরে নতুন করে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (রক্ত চাপ ১৪০/৯০ এর সমান অথবা এর বেশী) এ আক্রান্ত হয় এবং একই সাথে যাদের হাত-পায়ে পানি আসে এবং ফুলে যায় এবং প্রসাবে বা মুত্রে প্রোটিন জাতীয় পদার্থ যায় তাদের প্রি-এক্লাম্পসিয়া নামক রোগটি হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

সাধারণত যে সকল মহিলা খুব অল্প বয়সে অথবা খুব বেশী বয়সে প্রথম সন্তান ধারণ করে তাদের মধ্যে এই রোগ হবার প্রবণতা অনেক বেশী। এ ছাড়া যাদের আগে থেকেই হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস বা কিডনী রোগ থাকে অথবা যারা জমজ সন্তান ধারন করেছে বা পলিহাইড্রমনিয়স (polyhydramnios) বা হাইডাটিফর্ম মোল (Hydatiform mole) হয়েছে তাদের মাঝেও এই রোগ বেশী দেখা যায়। যাদের পরিবারে এমন রোগ হবার ইতিহাস আছে তাদের মাঝে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝেও এমন রোগ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে। এসকল মহিলার রক্তে গর্ভাবস্থায় প্রেসর সাবস্টেন্স (pressor substance) নামক বিবিধ রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারনে তিনি শরীরে উচ্চ রক্তচাপ রোগটি ধারণ করেন।

প্রিএক্লাম্পসিয়া হলে ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ তো বেড়ে যায়ই সেই সাথে পায়ে পানি আসতে শুরু করে, অস্বাভাবিক হারে শরীরের ওজন বাড়তে থাকে। সেই সাথে মাথা ব্যথা করা, ঘুম না আসা, উপরের পেটে ব্যথা করা, বমি করা বা বমি বমি ভাব লাগা, প্রসাবের পরিমাণ কমে আসা, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি নানাবিধ উপসর্গ দেখা দেয়।

কারো প্রিএক্লাম্পসিয়া হলে সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিতে হবে। একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানেই এমন একটি রোগী সর্বোচ্চ নিরাপদ। ভর্তির প্রসাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, অপথালমোস্কেপি সহ নানাবিধ পরীক্ষা করা হয়।

ভর্তির পর রোগীকে পূর্ণ মাত্রায় বিশ্রামে রাখা হয় এবং একদিকে কাত করে শোয়ানো হয়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রোগীকে মিথাইল ডোপা/ নিফিডিপিন এই জাতীয় অসুধ দেয়া হয়, সেই সাথে ঘুমের অসুধ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ওসুধ ও দেয়া হয়। এই ধরনের রোগীর খাবার এর সাথে লবন খাওয়া এক দমই নিষেধ, তবে যথেষ্ট প্রোটিন যুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য রোগীকে নিয়মিত দিয়ে যেতে হয়।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞই রোগীর উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন, সাধারণত বাচ্চা পরিণত হয়ে গেলে প্রসব বা ডেলিভারি করালে এই রোগ থেকে পুরোপুরি মুক্তি মেলে; তবে বাচ্চা পরিণত না হলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করে রোগীকে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়, পরবর্তী সময়ে বাচ্চা পূর্ণ পরিণত হলে তখন নরমাল ডেলিভারি বা সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চার জন্মদানের ব্যবস্থা করা হয়।

মনে রাখতে হবে প্রিএক্লাম্পসিয়া গর্ভবতী মায়ের জন্য ভয়াবহ একটি রোগ, এটা নিয়ে কোনো প্রকার অবহেলা বা গাফিলতি করা চলবেনা। এ রোগ সঠিক ভাবে চিকিৎসা না করালে শিশুর মৃত্যু থেকে শুরু করে মায়ের চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়া সহ জটিল জটিল সব সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই গর্ভবতী মায়ের উচ্চরক্তচাপ হলে বা হাতে পায়ে পানি আসলে সাথে সাথে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

{flike}

 

সুস্বাস্থ্য সুপারিশ করুন

এই সাইটের সকল তথ্য শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞানার্জন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত যা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প নয়রোগ নির্নয় ও তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়